-------------------------
মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবীঃ
------------------------
ইবনুল আরাবী (আরবি: ابن عربي, ইংরেজি: Ibn Arabi) (২৮ জুলাই, ১১৬৫ – ১০
নভেম্বর, ১২৪০) ছিলেন একজন আরব ছুফি সাধক লেখক ও দার্শনিক। ছুফিতত্ত্বে তার
অনবদ্য অবদানের কারনে তিনি শায়েখ আল আকবর মুহিউদ্দিন ইবনুল আরাবী নামেই
সমধিক পরিচিত।
আন্দালুসিয়া বা বর্তমান স্পেনের মূর্সিয়া নগরীতে
জন্ম গ্রহণ করায় তাকে আন্দালুসি ও আল-মূর্সি বলা হয়। তাছাড়া তিনি
দামেস্কে মৃত্যু বরণ করায় ডাকা হয় দামেস্কি।
তার মূল নাম মোহাম্মদ
এবং পারিবারিক নাম ছিল আবু আব্দুল্লাহ মোহম্মদ ইবনুল আলী ইবনুল মোহাম্মদ
ইবনুল আরাবী (أبو عبد الله محمد ابن علي ابن محمد ابن عربي) । তার পিতার
নাম আলী।
-------------
কথিত আছেঃ
------------
নিঃসন্তান আলী একটি পুত্র
সন্তান লাভের আশায় বাগদাদ শরীফে হযরত আবদুল কাদির জিলানীর নিকট গমণ করেন
এবং তার নিকট ;দোয়া প্রার্থনা করেন। বড় পীরের দোয়ায় তিনি একটি পুত্র সন্তান
লাভ করেন এবং তার নাম বড় পীরের নামানুসারে 'মুহিউদ্দীন' রাখেন।
শয়খ
শিহাবুদ্দিন সুহরাওয়ার্দী তার সর্ম্পকে বলেনঃ ইবনুল আবারী মারিফতের ও
হাকিকতের মহাসাগর। বাগদাদে যখন খাজা মইনউদ্দিন চিশতী (রহঃ) এর সামা'র মজলিস
বসতো তখন বহু দুর দুরান্ত হতে অনেক বুজুর্গ সুফীসাধকগণ সেখানে উপস্থিত
হতেন। তাদের মধ্যে শয়থ শিহাবুদ্দিন উমার সুহরাওয়ার্দী ও শয়খ ইবনুল আরাবীও
উপস্থিত থাকিতেন।
তাঁর রচনাবলীর মধ্যে ফুসুসুল হিকাম এবং ফতুহাতুল-মক্কীয়া উল্লেখ্যযোগ্য।
তিনি রমজান ১৭, ৫৬১ হিঃ (২৭ অথবা ২৮ জুলাই ১১৬৫ খৃঃ) তারিখে তৎকালীন
আন্দালুসিয়া বা বর্তমান স্পেনের মূর্সিয়া নগরীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
বিশ্বের প্রখ্যাত সুফী ও তত্ত্বজ্ঞানের আলোড়ন সৃষ্টিকারী দার্শনিক
মুহিউদ্দিন ইবনুল আরাবীর 'ওয়াহদাতুল ওযুদ' সত্তা, একত্ব,ঐক্য ও সর্বময়তার
ধারণা সমগ্র বিশ্বে আলোচনার ঝড় তোলে। তিনি কোরআনের সারবস্তুর ব্যাখ্যায়
'ওয়াহদাতুল ওযুদের' স্বরুপ ও প্রকৃতির চমকপ্রদ তত্ত্ব প্রদান করেছেন। তার
সুবিন্যস্ত বর্ণনায় সুরা কাসাসের ৮৮ নং আয়াতে কারিমার উল্লেখ রয়েছেঃ
কুল্লু শাইয়িন হালিকুন ইল্লা অজহাহু।'
অর্থঃ যাবতীয় কিছুই ধ্বংসশীল, তার সত্তা ব্যতীত।
এখানে বলা হয়েছে যে একমাত্র আল্লাহপাক ব্যতীত কোন সত্তারই অস্তিত্ব নেই।
তাহলে ইবনুল আরাবীর তত্ত্ব ও সুফীগুরু রুমির তত্ত্বে কোন পার্খক্য নেই।
আবার রুমি মসনবির প্রথম খন্ডের শুরুতেই বয়েতগুলো ব্যাক্ত করেছেন
নিম্নরুপেঃ
জুমলা মাশুকাস্ত আস্ত আশেক পর্দায়ি
জিন্দা মাশুকাস্ত আস্ত আশেক মুর্দায়ি।।
অর্থৎ 'জগতের সব কিছুই প্রেমাস্পদ এবং প্রেমিক আবরণ ও প্রপঞ্চ মাত্র। প্রেমাস্পদই জীবিত আর প্রেমিক মৃত।
ইবনুল আরাবীর ওয়াহদাতুল ওযুদের তত্ত্ব জগদ্বাসীর সামনে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও
বাগ্মীতার সাথে উপস্থাপিত হয়েছে। যা রুমির মসনবির দ্বিতীয় পর্বে
'ওয়াহদাতুল ওযুদ মতবাদের সঠিক ও তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। রুমির
অদ্বৈতবাদ, হামাউস্ত বা ওয়াহদাতুল ওযুদ' শায়খুল আকবরের সত্তার একত্বের
ধারণাই প্রদান করে।৩
এই মহান সুফী সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে প্রায়
ছিয়াত্তর বছর বয়সে তিনি ২২ রবিউস সানি ৬৩৮ হিঃ মোতাবেক ১২৪০ খৃষ্টাব্দে
মৃত্যু বরণ করেন। নিম্নে তার একটি কবিতার বাংলা অনুবাদ দেয়া হলোঃ
মুহিউদ্দীন ইবনুল আরাবী (রহঃ) এর কবিতাঃ
প্রেমের প্রভু
আমি যদি জানতাম : তিনি যা জানতেন
যার হৃদয় তিনি গ্রহণ করেছেন।
অথবা আমার হৃদয় যদি জানতো যে
পর্বত শীর্ষের দীর্ঘ সরু উঁচু রেখাগুলো
তাঁর অনুসরণ করে দুর্গম পথলেখ।
তুমি কি তাদের সেই চিহ্নগুলো দৃশ্যায়িত করতে পারবে?
কিংবা ধ্বংস করে দিতে পারবে সেই চিহ্নলেখ!
প্রেমের প্রভু প্রেমেই নিমজ্জিত নিরন্তর
এবং অনন্তের ফাঁদে হতচিত্তও?
তথ্যসুত্রঃ
১.উইকিপিডিয়া,
২.চার তরীকার পীর-এ টি এ খলীলুর রহমান
৩.ইবনুল আরাবীঃ ওয়াহদাতুল ওজুদ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ - মোস্তাক আহমদ
৪. দৈনিক ইত্তেফাক