মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭

রসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর ভেদ বিধিঃ কিঞ্চিত অনুধাবণ











-------------------------------------------------------------------------------------------
রসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর ভেদ বিধিঃ কিঞ্চিত অনুধাবণ
-------------------------------------------------------------------------------------------
এ্যায় খাতামে রাসুল(সাঃ) - কা'বা এ মকসুদ তু.ই
দার সুরাত.ই.হার চে হাস্ত মৌজুদ তু.ই
অায়াত.ই.কামাল.ই হক আয়ান আস্ত বা.তু
অান যাত কি দ্বার পর্দা নিহান বুদ তু.ই।।
অর্থঃ
হে নবীগণের সর্বশেষ, আপনিই কাবা [যা আমরা] চাই
বিদ্যমান সবকিছুর আকারে আপনিই উপস্থিত হন।
সত্যের নিখুঁত চিহ্নগুলি [ঈশ্বর] অাপনার মধ্যেই স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।
পর্দার পেছনে লুকিয়ে থাকার যে ঐতিহ্য, তা আপনিই।
হযরত খাজা শাহ্ পীর চিশতী (রহঃ) এর কালামে পাক 'চিশতী উদ্যান' শরীফে বলেনঃ
"দ্বার হারিমে পর্দায়ে ওয়াসেলে মোয়াল্লা মে থা কৌণ
ছেজদা গাহে জানে জানা মাই তেরা দেওয়ানা হো ।।"
শব্দার্থঃ দ্বার = দরোজা বা দরজা। হারিমে = হেরেম = ঘর । ওয়াসেল = মিলন। মোয়াল্লা= অারশে মোয়াল্লা - সৃষ্টিরাজ্যের শেষ সীমানা। থা = থাকা। কৌণ = কে।
ছেজদা = সিজদাহ-প্রণিপাত করা, অাত্মসমর্পণ করা, গাহে = উদ্দেশ্য । জানে = প্রাণ শক্তি। জানা = জানা শোনা অর্থাৎ পরিচিত। মাই = অামি। তেরা= তোমার।
মেরাজের রজনীতে যখন হুজুর পাক রাসুল (সাঃ) মহান আরশের অধিপতি সুববুহুন কুদ্দুসুন মহান জাত পাক আল্লাহ পাকের সাথে দেখা করতে যান, তখন পর্দার আড়ালে কে ছিলেন?
অলিয়ে কামিলগণ অবশ্যই তাঁর মর্তবা বুঝেন, জানেন। আর জানেন বলেই তারা এই ধরণীতে তাঁর মহান আর্বিভাব দিবসটাকে ধুমধামের সাথে আনন্দের সাথে উদযাপন করেন। আর এটিই হচ্ছে ঈদ.ই.মিলাদুন নবী (সাঃ)।
যার কারণে নিখিল ভুবন হলো উজালা, তিনিই হলেন মুহাম্ম দ (সাঃ) । তাঁর শানেই মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআন শরীফে বলেনঃ
"ইন্নাললাহা ওয়া মালাইকাতাহু ইউসাল্লুনা আলান নবী, ইয়া আইয়্যুহাললাজিনা আমানু, ইউসাল্লু আলাইহে ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা। [ সুরাঃআযাব, অায়াতঃ ৫৬ ]
অর্থঃ আল্লাহ তার ফেরেশতাকুলকে নিয়ে নবীজী (সা.)-এর ওপর দরূদ পড়েন। তোমরা যারা ঈমান এনেছ; তারা আমার নবীর ওপর সালাম প্রেরণ কর যথাযথভাবে।
যেখানে আল্লাহ পাক তাঁর ফেরেস্তাদের নিয়ে সালাত করেন নবীর প্রতি, এবং নব্য ঈমানদেরকে আহব্বান করছেন, আদব কায়েদা সহকরে নবীর প্রতি সালাত আদায় তথা দরুদ পাঠানোর জন্য, সেখানে কে কি বললো না বললো, সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন দরকার দেখছি না। কারণ, আল্লাহ পাকের হুকুম মানা ফরজ। কাজেই যে আদেশ আামানুগণের প্রতি করা হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করাই ধর্ম।
তাছাড়া আমরা এমন একজন নবীর উম্ম ত, যিনি কুল কায়েনাতের সর্দারে দো'আলম। যার নুর দ্বারা সমগ্র জাহান সৃষ্টি,( অাউয়ালু মা খালাকাল্লাহু নুরী....দ্রষ্টব্য ), তার জন্য আমাদের গর্ব করা উচিত। কারণ, আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর উম্ম ত। উম্ম তে মুহাম্ম দী....
অথচ তা না করে আমরা ফতোয়াবাজীর মাধ্যমে ভাগে ভাগে বিভক্ত হচ্ছি। কোরআনকে মানি, অথচ মুহাম্ম দ (সাঃ) কে মানি না.....তিনি বড় ভাইয়ের মতো...(নাউযুবিল্লাহে মিন জালেক)..এই সমম্ত যারা বলে তাদের কান্ড জ্ঞান বলে কিছুই নেই।
উত্তম হচ্ছেঃ তাদের থেকে দুরে থাকা। তাদের সাথে বাজে তর্ক করে সময়ক্ষেপন করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এড়িয়ে চলূন। এসব যারা বলে, তাদের থেকে দুরে থাকলে আপনার ঈমান আমান সবকিছুই নিরাপদ থাকবে।
[সংক্ষেপিত]