বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

বিধাতার নিজের সৃষ্ট সৃজিত বিষয় একটাই হয়

আপেল গাছ তো পুর্বেও ছিল এখনও আছে....সেই গাছের নিচে এখন কেউ না কেউ বসে। গাছ থেকে অাপেলও পড়ে। পুর্বেও পড়েছিল এখনও পড়ে। কিন্তু কেউ কি নিউটনের মতো ভেবেছে...সবাই কি নিউটন হয়...না-কি সুত্রটি নিউটন আবিষ্কার করবে বলে পুর্বে কেউ সেটা নিয়ে মাথা ঘামায়নি...মনে হয় সুত্রটি কেবল অপেক্ষায় ছিল...নিউটন নামে একটা পাগল এই গাছের নিচে বসবে। টুপ করে আপেল পড়বে..অার অমনি সে ভাব-গম্ভীর হয়ে ভাবতে বসবে - কেন পড়লো? ভাবুকদের জন্য উপকরণের অভাব হয় না....বরং উপাদানগুলোই তার জন্য অপেক্ষা করে...

যে শিশু সদ্য বর্ণামালায় সজ্জিত অক্ষরের সাথে পরিচিত হয়েছে, সে কেমন করে উপলব্দি করবে... প্রকৃতির সাজানো গোছানো নীরব ভাষায় লেখা কবিতাগুলো কিংবা সাহিত্যের উপাদানগুলোর মহিমা?
কিভাবে সে পাবে স্র্রষ্টার নিটোল প্রেমের কাব্য মহিমার রহস্য?

কচি মাথার বাচচাদের মতো বুলি অাউরানো তোতা পাখিরা পাঠ্য পুস্তক পাঠ করেই ভাবে.. অামি বেশ জ্ঞানী হয়ে গেছি।
আরে বুজদিল, বে-কুফ, যে জ্ঞানী হয়, সে নরোম মনের মানুষ হয়। তার ভেতর অহং বোধ থাকে না...সে নিত্য নতুন ভাবে নিজেকে সাজায় প্রেমের মহিমায়। এই প্রেম পার্থিব নয়...অপার্থিব প্রেম.....এক স্বর্গীয় অনুভুতি....যা ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়...
পরম করুণাময় করুণাবশতঃ হয়েই দয়া করেই তার হাতে পানপাত্র তুলে দেন..পান করান সেই শরাব....সেই শরাব পান করেই তারা বিখ্যাত বিখ্যাত সব উক্তি করে বসেন। 

জগতের দিকে তাকালে দেখা যায় - জালালউদ্দিন রুমী (আঃ), ইবনুল আরাবী (রহ) ফরিদউদ্দিন আত্তার (রহ) , হাকিম সানাই (রহ) , মোল্লা জামী (রহ) , শেখ সাদী (রহ) , হাফেজ সিরাজি (রহ), আল্লামা ইকবাল, প্রমুখ সকলেই একপিস। দ্বিতীয়টি নেই। আল্লাহও এক পিস। দ্বিতীয়টি নেই। কেন নেই...এখানেই রহস্য..

মোল্লারা তো বলেন...আল্লাহ সবই পারেন। তাহলে সেই মোল্লাদের কাছেই প্রশ্নঃ যে সব মনীষীদের কথা উপরে উল্লেখ করা হলো,তাদের আল্লাহকে বলুক তার মহান কুদরতের কারিশমা দিয়ে দ্বিতীয়টি তৈরী করতে....নাউযুবিল্লাহ বলে একটা ফতুয়া দিয়ে বসবে....তারা বুঝে না, মহান জাত পাকের প্রেমের পাগল গুলো অগুনতি হলেও
মাশুক কিন্তু একটাই।

#দিওয়ান.ই.সাকী #স্বপন #চিশতী

কবি ও কবিতা এবং নারী

-আচ্ছা, আপনাকে একটা প্রশ্ন করি? করবো?

আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হেসে মেয়েটি বললো। তার হাসির রেখা এখনো মুখে লেগে আছে। প্রশস্ত ললাটের ভাগে মাথার কিছুটা চুল উড়ে এসে পড়লো। মেয়েটি অদ্ভুতভাবে সেই উড়ে যাওয়া চুলগুলো আলতো ভাবে সরিয়ে আবারো বললোঃ আপনাকে কি একটি প্রশ্ন করতে পারি?

আমি তার দিকে তাকিয়ে বললামঃ

-করো।

-আচ্ছা আপনি কি দার্শনিক?

তার প্রশ্ন শুনে চমকে যাই। সত্যিই তো? আমি কি দার্শনিক? নাহ্...আমার কোন দর্শন নেই। যার দর্শন নেই, সে কি করে দার্শনিক হয়?
দর্শন মানে তো দেখা। কাকে দেখা? আমাকে দেখা? যেহেতেু সে বলছে আপনি কি দার্শনিক? তার মানে হলো আপনি কি দর্শন করেছেন? দৃশ্+অনট্ = দর্শন। দৃশ দ্বারা দেখা বুঝায়। যে আলো প্রতিফলিক হয় তা চোখের রোডস এবং কোনস নামক দুটি বস্তুর সমন্বয়ে রেটিনায় ধরা পরায় তারা দেখছে। অামিতো রোডস এবং কোণ্ কোনটাই না। তাহলে কে বললো-এ কথা!
আশ্চ র্য্যতো....আমি থমকে গেলাম...কি জবাব দেব? এ প্রশ্নের উত্তর তো আমার জানা নেই। তাহলে সরাসরি বলে দেই...জানি না...তাতে কি মেয়েটি কষ্ট পাবে?
আমি গম্ভীর গলায় বললামঃ

-নাহ...

এ কথাটা বলতে এতোক্ষণ লাগলো? আচ্ছা দ্বিতীয় আরেকটি প্রশ্ন করি? করবো?

আমি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তার চোখ দুটো অপুর্ব কারুকার্য করা। চোখের কোণে কালি জমে কিছুটা কালচে হয়ে আছে...এই পড়ে তো সেই পড়ে...কিন্তু পড়ছে না। একবিন্দু পানি একটা কোণে জমে রইলো।

আমি ভালো করে তাকাতেই অবাক হয়ে গেলাম। দেখলাম সেই পানিতে সুর্যটাকে দেখা যাচ্ছে। তার চোখের মণিতেোও সুর্যটাকে দেখা যাচ্ছে। আর অন্যটিতে আমাকে দেখা যাচ্ছে। মেয়েটি আড়াঅাড়ি দাঁড়ানোতে এই অদ্ভুদ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে। আমি সেই মুহুর্তটাকে হারাতে দিলাম না। অবলীলায় তাকিয়ে রইলাম তার চোখের দিকে।

আমাকে ওভাবে তাকাতে দেখে সে লজ্জা পেল। চোখ সরিয়ে নিতেই সেই পানিটুকু টুপ করে গড়িয়ে পড়লো। পানিটুকু আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টায় সে রত হলো। তারপর চোখ দুটো তুলে আমার দিকে তাকিয়ে বললোঃ

-আচ্ছা,আপনি কি কবি? নাকি সাহিত্যিক?

মেয়েটির প্রশ্ন শুনে আমার এমন হাসি পেল যে নিজেকে সংযত করে রাখতে পারলাম না। সশব্দে হেসে উঠলাম। হাসির থমকে আমার দেহ বার বার কেঁপে উঠছে...নিজেকে সামলে নিয়ে বললামঃ

তোমার প্রতিচ্ছবি আমি দেখেছি শিমুল গাছের তলে
কুলু কুলু স্বরে বয়ে চলা নদীর কালো জলে।
শিশির ভেজা ঘাসের ডগায়। জমে থাকা শিশির বিন্দুতে
তোমাকে দেখেছি আমি গভীর আবেশে, গভীর আবেগে
মমতামাখা কোন দুষ্ট মেয়ের চোখের জলে।
ভোরের দোয়েল কিংবা ভাত শালিকের খুনসুটিতে
কিংবা প্রভাতের রাঙা আলোক রশ্মি তে।
এক চিলতে ভালোবাসার রঙিন ত্রিভুজের চিত্রাংকনে
রক্তের চিন্হে লেখা ভালোবাসার বন্ধনে।
হে নারী,
তুমি কেবল নারী নও স্র্রষ্টার ছায়াও হও
তোমার ম্যায়খানে তৈরাী হয় খোদার পুতুল নুরানী নুর
তুমিই অাদ্যাশক্তি, দাও শরাব করিব পান
করিবো তোমায় ভক্তি।।

#দেওয়ানে #সাকী - #স্বপন #চিশতী