বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮

অনুকাব্যঃ পাখির ডাক













---------------------
অনুকাব্যঃ পাখির ডাক
---------------------
সারা দিনমান চিকির মিচির করে
ডাকে যে আমার পরাণ পাখি..
পাখিরে, তোর ডাকে সারা না দিয়ে
কেমন করে থাকি?....


অনুকাব্যঃ অতৃপ্তি















----------------
অনুকাব্যঃ অতৃপ্তি
----------------
কষ্টে আমার ফেটে যায় বুক
তবুও আশায় থাকি
যদি দেখি কোনদিন
সেই চেনামুখ।।

#ম্বপন #চিশতী

অনুকাব্যঃ প্রেম-পিরীতি





















-------------------------
অনুকাব্যঃ প্রেম-পিরীতি
--------------------------
তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা এই
প্রেম পিরিতির রীতি-নীতি সদা ভুলে রই।।
ভাবুক আমি, প্রেমিক আমি, পাগল আমি
আমিতো তোমার আছি, তোমাতেই রই।।

#স্বপন #চিশতী

মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৮

খায়রুল মসলিশ - পর্ব দ্বিতীয়





















--------------------------------
খায়রুল মজলিশ-দ্বিতীয় পর্ব
স্থানঃ বারাহিগুণী দরবার শরীফ
--------------------------------

হযরত খাজা চেরাগী চিশতী (রহঃ) এর বেছালে হক প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে প্রথম উরশ শরীফে লক্ষাধিক ভক্তপ্রাণ আশেকানে চিশত উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করেরহাটের মাওলানা সাহেব। যার নামঃ হযরত মাওলানা শাহ্ ফজলুল হক চিশতী। তিনি করেরহাটের মাওলানা সাহেব নামেই সুখ্যাতি অর্জন করেছেন এবং লোকজন তাঁকে সে নামেই সমধিক চেনে।

তিনি চিশতী উদ্যান শরীফ থেকে এতো সু্ন্দর ও মনোমুগ্ধকর বক্তৃতা করছিলেন যে, উপস্থিত আশেকানে চিশতগণ একাগ্রচিত্তে তা শ্রবণ করছিলেন। প্রসংগক্রমে তিনি বললেনঃ সুফী সদরউদ্দিন চিশতী ভাই সাহেব, একদিন আমাকে ডেকে বললেনঃ
-ভাই সাহেব, বাবাজান কিবলা আমাকে দিয়ে কোরআন দর্শন লিখিয়েছেন। অথচ 'চিশতী উদ্দ্যান' তাঁর কালাম শরীফের একটা ব্যাখ্যাও আমাকে দিয়ে লিখাননি। আর আপনি কি অবলীলাক্রমে তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ দিয়ে যাচ্ছেন।

শুনে তিনি বললেনঃ

-ভাই সাহেব, বাবা শাহ্পীর চিশতী (রহঃ) বলেছেনঃ - আরে মিয়া, তুমিতো দেখছি ভাতের হাঁড়ির ঢাকনাটা উদলা করে দিচ্ছো..অর্থাৎ আমার সব রহস্য ব্যক্ত করে দিচ্ছো। ভাই সাহেব, তাঁর অনুমতিক্রমেই আমি এই ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিচ্ছি। এটা আমার মন গড়া কথা নয়। তিনি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন বলেই আমি বলতে পারছি।

সুধী আশেকানে চিশতগণ,

এ ব্যাপারে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। হযরত খাজা শাহ্ পীর চিশতী (রহঃ) এর সারা জীবনের ধ্যান সাধনার ফসল হলো চিশতী উদ্যান। মুলতঃ এটি গজলের বই হলেও এর মধ্যে রয়েছেঃ অফুরন্ত জ্ঞানভান্ডারের রহস্যাবলী। এর মধ্যে রয়েছে হযরত খাজা শাহ্ পীর চিশতী (রহঃ) - এর ঐশ্বরিক প্রেমগাঁথা এবং খাজা গরীব নওয়াজ (রাঃ) এর শানে রচিত কালামে পাক। যা পারস্য দেশের আদলে রচিত হলেও বাংলাতে এমন উর্দ্দু, ফার্সী ভাষার সংমিশ্রণে লিখিত গজলের বহিঃপ্রকাশ কদাচিৎ দেখা যায় না। এতে যেমন রয়েছে মাওলানা রুমীর দর্শন তেমনি রয়েছে ইবনুল আরাবীর দর্শন।

তাই, আমি আমাদের দরবারের অনুসারীদের সনিবর্দ্ধ অনুরোধ করবোঃ আপনারা চিশতী উদ্যান নিয়ে কোন প্রকার পোষ্ট দিতে যাবেন না। অথবা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে যাবেন না। এটা নেহায়েত অন্যায় এবং গর্হিত কাজ। যদি অাপনাকে অনুমতি দেয়, তাহলে লিখুন। কোন আপত্তি করবো না....কিন্তু আপনার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ কখনোই চিশতী উদ্যানের নামে প্রকাশ করতে যাবেন না। এটা নেহায়েত বেয়াদবী বৈ অন্য কিছু নয়। ওয়ামা আলাইনা ইলাল বালাগ।

যদি ভুল বলে থাকি,তাহলে ক্ষমা করবেন। এমনটাই আশা করবো।
তেরে ইশক্ নে মুঝে এ্যায়ছা মাস্তি কর দিয়া
হার পাল হার ধরকন মে তুহি তু দেখা দিয়া।।
#স্বপন #চিশতী

সোমবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৮

খায়রুল মাজলিশ - প্রথম পর্ব

 


















-------------------------------------------------
খায়রুল মাজলিশ - প্রথম পর্ব
-------------------------------------------------
স্থানঃমোমিনুল ইসলাম চিশতী সাহেবের বসত বাড়ী
ওয়াপদা রোড, পশ্চি ম রামপুরা,
ঢাকা-১২১৯।
---------------------------------------
রমজান মাস। বাদ আসর। সালঃ ২০১১ইং।

বিকেল সাড়ে পাঁচটা বাজে। চারদিকে রোজাদারদের ইফতারের আয়োজন চলছে। ঠিক সেই মুহুর্তে হযরত খাজা চেরাগে চিশতী (রহঃ) তসরীফ রাখলেন শাহ্ ফকির মোহাম্মাদ রতন মিয়া চিশতী নিজামীর বসত বাড়িতে। বাবা চেরাগে চিশতী (রহঃ) যখন চিশতী সাহেবের বাড়ীতে আসেন, সে সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন জনাব শেখ আহ্ মদ চিশতী (খাদেম-বাবা চেরাগে চিশতী)।
[ উল্লেখ্য যে,  বাবাজান ছিলেন শান্তিবাগ আমার নানাবাড়ীতে। শান্তিবাগ থেকে রিক্সাযোগে আমাদের বাড়ীতে আসেন ]

বাবা চেরাগে চিশতী (রহঃ) - কে এর ইফতারের দাওয়াত দেয়া হয়েছিল আমাদের এক পীর ভাই মোমিনুল হক চিশতীর বাড়ীতে। মোমিন ভাইয়ের বাড়ী ওয়াপদা রোড। আমাদের বাড়ী থেকে রিক্সাযোগে গেলে ১০/১৫ টাকা ভাড়া। হেঁটেই যাওয়া যায়। 
আমাদের বাড়ীতে অতিথি হয়ে  এলেন আবদুর রহমান ভাই [প্রায়ত - সাংবাদিক রহমান ভাই হিসেবেই তিনি অধিক পরিচিত। বাড়ীঃ গোপালগঞ্জ।] এবং সাথে শহিদ ভাই। আমরা সবাই বাবা চেরাগে চিশতী (রহঃ) - এর পাক চরণে তাজিম বাদ আরজ পেশ করলামঃ মোমিন ভাইয়ের বাড়ীতে যাবার জন্য। তিনি আর্জি মন্ঞ্জুর করলেন এবং আমাকে আদেশ করলেনঃ 

- এই মিয়া, তুমি এখানে থাকো। আরো যারা আসবে, তাদের নিয়ে তুমি ঐ মিয়ার (মোমিন ভাইয়ের দিকে ইংগিত করছেন) বাড়ীতে ইফতারের আগে নিয়ে আসিও। 

আমিও বাবা চেরাগে চিশতী (রহঃ) আজ্ঞাবহ হয়ে তাঁদেরকে রিক্সাযোগে উঠিয়ে দিলাম এবং অপেক্ষা করলাম ইফতারের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত। সে সময়ও আরো চার-পাঁচজন পীর ভাই অামাদের বাড়ীতে আসলেন। এর মধ্যে জিন্নাহ ভাইও উপস্থিত হলেন। তার সাথে পুর্ব পরিচয় থাকায় আমার বেশ সু্বিধা হলো। অতঃপর আমরা ইফতারের দশ মিনিট পুর্বে সেখানে উপস্থিত হই। দেখলাম, বাবা চেরাগে চিশতী মোনাজাত করছেন। আমরাও শামিল হলাম।

মাগরিবের আজান হলো। আমরা একসাথে সবাই ইফতার করছি। ইফতার শেষ করে মাগরিবের নামাজ আদায় করা হলো। নামায  শেষ হলে অনেকেই সেখান থেকে বের হয়ে যান। শুধু থাকি আমি এবং জিন্নাহ ভাই। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শেখ আহমদ ভাই। আমি বাবা জানের কাছে জানতে চাইছিলাম - চিশতী উদ্যান এবং বোরহানুল আশেকীন সর্ম্পকে। 
তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেনঃ 
- কি জানতে চাও?
-বাবাজান, চিশতী উদ্যান সর্ম্পকে জানতে চাচ্ছি?

তৎউত্তোরে তিনি বললেনঃ

- তুমি কি জানো সেটা আগে বলো? [একটু স্মীত হাসি দিয়ে]বাবাজানের সেই রুপ দেখে নিজের ভেতর কেমন যেন করে উঠলো। হায়! এ রুপ কি কখনো কোনো মানুষের হয়....
অামি বললামঃ
- বাবাজান আমি দেখলাম যে, একজন সাধক যখন সারাজীবন সাধনা করেন, তখন তাঁর ভেতর পাক কালাম প্রকাশ পায়। এরপর সেই পাক কালামগুলো লিপিবদ্ধ করলে সেগুলো কিতাব আকারে আসে। যা আমরা পুস্তক আকারে দেখে থাকি। বাবা শাহ্ পীর চিশতী (রহঃ) যত রেযাজত [কঠোর তপস্যা] করেছেন, তাঁর ভেতর যে পবিত্র বাণী উঠে অাসছিলো, তা-ই চিশতী উদ্যান।

এরপর বাবা চেরাগে চিশতী  (রহঃ) - এর কাছে আল্লামা ইকবালের একটি শায়ের পেশ করি, যা ছিলঃ
‘তেরে যমির পে যব তক না হো নুজুলে কিতাব
গেড়াহ কুশাহ  না রাজী না সাহেবে কাশ্বাফ’।।
অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত তব অন্তরে ঐশী প্রেরণা অবতীর্ণ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এর রহস্য প্রখ্যাত তফসীরকার  ইমাম ফখরুদ্দীন রাজীই হোন, বা তফসীরকার কাশশাফের লেখক আল্লামা যমখশরীই হোন, কেউ এর মর্ম গ্রন্থী খুলতে পারবে না।

এ কথা বলার পর তিনি আমার দিকে তাকালেন। এমন ভাবে তাকালেন, যেন আমার ভেতরটা জ্বলে পুড়ে খাক্ হয়ে যাচ্ছে। এমন আগুন জ্বললো বুকের ভেতর, যা ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়। আমার সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে গেল। অার চোখ থেকে অবিরাম পানি পড়তে লাগলো। ভয়ে অামি প্রকম্পিত ছিলাম। কতোক্ষণ ছিলাম বলতে পারবো না। তবে হুঁশ আসলো...বাবাজান যখন বললেনঃ

-তুমি ঠিকই বলেছো মিয়া...তুমি কি আসরারের [তিনি হচ্ছেন আমাদের শ্রদ্ধেয় বড় ভাইজান। তাকে আমি দাদা বলে ডাকি। তিনি হযরত খাজা শাহ্ পীর চিশতী (রহঃ) এর চিশতী উদ্যান দার্শনিক দৃষ্টিভংগীর অালোকে এত সুন্দর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেন, যা না শুনলে মনে হবে, চিশতী উদ্যানের অনেক রহস্যই জানা হয়নি। ] কাছে যাও নি...তার সাথে বসে কথা বলবে...বুঝছো নি...যাও...

এরপর বাবাজানকে তাজিম করে বের হয়ে আসি।

আসার পর জিন্নাহ্ ভাই আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেঃ

- ভাই, আপনার কারণে বাবাজানের কাছে চিশতী উদ্যানের হাকীকাত সর্ম্পকে কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারলাম। 
জিন্নাহ ভাইয়ের কথা শুনে আমি বললামঃ
- জিন্নাহ্ ভাই, আপনিতো আমারই ভাই। আমি বাবাজানের কাছে যা জানতে চেয়েছি, অাপনিও তা জানতে পেরেছেন। এরচেয়ে বড় সৌভাগ্য কার কি হতে পারে? সবাইতো চিশতী উদ্যান পড়ে। কিন্তু এর মর্মার্থ কতোজন জানতে পেরেছে...সেটা হলো বড়ো কথা

বাদ সালাম। ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ।